শনিবার, ২০ Jun ২০২৬, ০৫:১৭ অপরাহ্ন

কিশোরগঞ্জ থেকে ৩১৫ কারাবন্দির নাম মন্ত্রণালয়ে

স্টাফ রিপোর্টারঃ করোনা পরিস্থিতিতে কিছু কিছু কারাবন্দীদের মুক্তির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সে কারণে কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগার-১ থেকেও ৩১৫ জন আসামির নামের তালিকা পাঠানো হয়েছে আইন মন্ত্রণালয়ে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কিশোরগঞ্জ জেল সুপার মো. বজলুর রশীদ।

তিনি জানান, নির্ধারিত কমিটি কর্তৃক যাচাই বাছাই শেষে আইন মন্ত্রণালয় থেকে প্রধানমন্ত্রীর স্বাক্ষরিত চিঠি আসার পর জানা যাবে ঠিক কতজনকে কারামুক্ত করা হবে।

তিনি জানান, যখন বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে কারাবন্দি অপরাধীদের কারামুক্ত করার সিদ্ধান্ত হয়, তখন কোভিড-১৯ ও অন্যান্য শারীরিক সমস্যা নির্ণয় করতে জেলা সিভিল সার্জন ও ৩ জন ডাক্তারের মাধ্যমে ৪ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে কাজ শুরু করা হয়। পরে জেলা প্রশাসককে সভাপতি, জেল সুপারকে সদস্য সচিব এবং পুলিশ সুপার, জেলা সিভিল সার্জন, সমাজসেবা উপপরিচালক ও জেলা পাবলিক প্রসিকিউটরকে সদস্য করে ছয় সদস্যের একটি কমিটির মাধ্যমে ৩১৫ জন কারাবন্দির নামের তালিকা ঢাকায় পাঠানো হয়।

তিনি আরো জানান, বড় ধরনের অপরাধীরা তো এমন সুযোগ পাবেনা। সাধারণত ছোট অপরাধের সঙ্গে যারা জড়িত, বৃদ্ধ বা অসুস্থ তাদের তালিকাই পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে কারাবন্দি ৭০-৯৫ বয়সের ১৩ জনের নাম রয়েছে আর বাকিরা ৬ মাস ও একবছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামি। ভাল ব্যবহার বা ভাল কাজ করেছেন এমন বন্দিও রয়েছেন তালিকায়।

কারাগার সূত্রে জানা যায়, কিশোরগঞ্জ জেলায় দু’টি কারাগার রয়েছে। নতুনটি কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগার-১ এবং পুরাতনটি কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগার-২ হিসেবে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। ১৯৪৮ সালে শহরের গাইটাল বটতলা এলাকায় মহকুমা কারাগারের যাত্রা শুরু হয়। ৫২’র ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ৭০’র নির্বাচন ও পরবর্তীতে স্বাধীন বাংলাদেশে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে অসংখ্য নেতাকর্মী এখানে আটক ছিল। এই কারাগারটিতে কারাবন্দিদের ধারণ ক্ষমতা খুবই স্বল্প। মাত্র ২৪৫ জন বন্দি ধারণ ক্ষমতার কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগার। জায়গা সংকুলান না হওয়ায় ধারণ ক্ষমতার ৬ গুণ বন্দিকে রাখা হতো এ কারাগারে।

কিশোরগঞ্জে নতুন জেলা কারাগার তৈরির পর কারাবন্দিদের সেখানে স্থানান্তর করা হয়। ১৯৯৮-৯৯ অর্থ বছরে ৬৮.৪৬ কোটি টাকা ব্যয়ে কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগার নির্মাণ কাজ শুরু করে গণপূর্ত বিভাগ। প্রায় ১৮ বছর পর শেষ হয় নির্মাণ কাজ। মোট ৩০ একর জমির ওপর নির্মিত নতুন জেলা কারাগারে রয়েছে ২ হাজার বন্দির ধারণ ক্ষমতা। রয়েছে নারী ও পুরুষ কয়েদিদের জন্য পৃথক চারটি ব্যারাক, প্রিজনার্স ওয়ার্কসেট, দুটি হাসপাতাল, প্রিজনার সেল ও কনডেম সেল, ক্লাসিফাইড প্রিজনার্স ব্যারাক, জেল অফিস, জেলারের বাস ভবন, স্টাফ কোয়ার্টারসহ আধুনিক ২৪টি ভবন।

কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগার-২ সম্পর্কে জেল সুপার মো. বজলুর রশীদ জানান, বর্তমানে এই কারাগারটিতে বিভিন্ন মেরামতের কাজ চলছে। বৃহত্তর ময়মনসিংহের বিভিন্ন জেলায় যদি কারাগারে কোন কয়েদি কোভিড-১৯ আক্রান্ত হয়, তাদেরকে এখানে আইসোলেশনে রাখা হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2024  Ekusharkantho.com
Technical Helped by Curlhost.com